প্রধান তারিখ ও সময়
- গণেশ চতুর্থী: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- অনন্ত চতুর্দশী: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — শেষ সামূহিক বিসর্জনের দিন।
- হায়দরাবাদে বাড়ির পুজো: সকাল ১০:৫৯ থেকে দুপুর ১২:৩৫ পর্যন্ত।
- নীচের সব সময় ১৪ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট শহরের স্থানীয় সময়। এগুলি বাড়িতে প্রতিমা স্থাপন ও পুজোর জন্য দেওয়া হয়েছে।

গণেশ চতুর্থীকে বিনায়ক চবিতিও বলা হয়। বিঘ্ননাশক, জ্ঞান ও শুভ সূচনার দেবতা গণেশের জন্মোৎসব হিসেবে এই উৎসব পালিত হয়। পরিবারগুলি বাড়িতে প্রতিমা স্থাপন করে, পুজো ও নৈবেদ্য নিবেদন করে এবং একসঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়।
এই নিবন্ধে ২০২৬ সালের তারিখ, বিভিন্ন শহরে প্রতিমা স্থাপনের সময়, বাড়ির পুজোর সংক্ষিপ্ত ক্রম ও স্যমন্তক কাহিনির শ্লোক দেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রথমবার পুজো করছেন, তাঁদের সুবিধার জন্য প্রধান আচারগুলির অর্থও সহজভাবে বোঝানো হয়েছে।
উৎসবের তারিখ ও সময়কাল
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ভাদ্রপদ শুক্ল চতুর্থী, অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্থ তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়।
অনন্ত চতুর্দশী শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এই দিন সর্বজনীন গণেশ উৎসবের শেষ বিসর্জন হয়। ১৪ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, দুই তারিখ-সহ গুনলে ক্যালেন্ডারের ১২টি দিন হয়। চন্দ্রতিথির দৈর্ঘ্য সাধারণ দিনের সমান নয়। তাই প্রচলিত ‘দশ দিনের উৎসব’ কথাটিকে ২০২৬ সালের জন্য নির্দিষ্ট দিনের হিসাব হিসেবে ধরবেন না।
বাড়িতে প্রতিমা কত দিন রাখা হবে, তা পরিবারের রীতি অনুযায়ী ঠিক হয়। শেষ সামূহিক বিসর্জন ২৫ সেপ্টেম্বর বলে প্রত্যেক পরিবারকে সেই দিন পর্যন্ত প্রতিমা রাখতে হবে, এমন নয়।
গণেশ স্থাপন ও পুজোর সময়
গণেশ স্থাপন বলতে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করা বোঝায়। স্থানীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অনুযায়ী দিনের মাঝের অংশকে মধ্যাহ্নকাল বলা হয়। গণেশ পুজোয় এই সময়ের গুরুত্ব আছে; এর অর্থ ঘড়িতে ঠিক দুপুর ১২টা নয়।
নীচের সময়গুলি সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাড়িতে স্থাপন ও পুজোর জন্য। সর্বজনীন মণ্ডপ ও মন্দিরের সময়সূচি আলাদা হতে পারে। যেখানে পুজো করবেন, সেখানকার ব্যবস্থা অনুসরণ করুন।
সময় ২৪ ঘণ্টার পদ্ধতিতে এবং প্রতিটি শহরের স্থানীয় সময় অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। যেমন, 13:21 মানে দুপুর ১:২১। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ডেলাইট সেভিং সময় অন্তর্ভুক্ত আছে। বিদেশের সময়কে ভারতীয় সময় থেকে আবার রূপান্তর করবেন না।
ভারতে পুজোর সময়
| শহর | পুজোর সময় |
|---|---|
| হায়দরাবাদ | 10:59–12:35 |
| ধর্মপুরী, করিমনগর, জগিত্যল | 10:57–12:33 |
| আদিলাবাদ | 10:59–12:35 |
| ওয়ারাঙ্গল | 10:55–12:31 |
| বিজয়ওয়াড়া | 10:51–12:27 |
| বিশাখাপত্তনম, বিজয়নগরম | 10:40–12:16 |
| তিরুপতি | 10:56–12:32 |
| বেঙ্গালুরু | 11:03–12:39 |
| চেন্নাই | 10:52–12:28 |
| মুম্বই | 11:22–12:58 |
| নয়াদিল্লি | 11:04–12:41 |
| কলকাতা | 10:19–11:56 |
ভারতের বাইরে পুজোর সময়
| শহর | পুজোর সময় |
|---|---|
| নিউ ইয়র্ক, আমেরিকাEDT · UTC−04:00 | 12:04–13:21 |
| লস অ্যাঞ্জেলেস, আমেরিকাPDT · UTC−07:00 | 11:35–13:12 |
| ডাবলিন, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকাPDT · UTC−07:00 | 11:49–13:27 |
| ডালাস, আমেরিকাCDT · UTC−05:00 | 12:09–13:46 |
| লন্ডন, ব্রিটেনBST · UTC+01:00 | 11:41–13:20 |
| টরন্টো, কানাডাEDT · UTC−04:00 | 12:04–13:38 |
| সিডনি, অস্ট্রেলিয়াAEST · UTC+10:00 | 11:38–12:14 |
| মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়াAEST · UTC+10:00 | 11:38–12:39 |
এই তালিকার সব সময় OnlineJyotish-এর হিন্দু উৎসবের ক্যালেন্ডার থেকে নেওয়া হয়েছে। অন্য স্থানের জন্য আমাদের হিন্দু উৎসবের ক্যালেন্ডারে নিজের শহর বেছে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য দেখুন। নিজের শহরের উৎসবের ক্যালেন্ডার দেখুন
চন্দ্রদর্শন ও স্যমন্তক কাহিনি
গণেশ চতুর্থীর একটি প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চতুর্থী পালনের সময় চন্দ্রদর্শন এড়ানো হয়। এর সঙ্গে মিথ্যাপবাদ, অর্থাৎ না-করা অপরাধের অভিযোগ ওঠার বিশ্বাস জড়িত। এটি ধর্মীয় আচার। সব জায়গায় এর অর্থ ‘সারা রাত’ ধরে নেবেন না; স্থানীয় তিথি ও চাঁদ দেখা যাওয়ার সময়ও বিবেচ্য।
স্যমন্তক কাহিনিতে বলা হয়, এই উপলক্ষে চাঁদ দেখার পরে শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে স্যমন্তক মণি চুরির অভিযোগ উঠেছিল। ভুল করে চাঁদ দেখে ফেললে এই কাহিনি পড়া বা শোনাকে প্রচলিত প্রতিকার হিসেবে মানা হয়।
স্যমন্তক কাহিনির শ্লোক
সম্পূর্ণ কাহিনি শোনা সম্ভব না হলে নীচের শ্লোক ১১ বার পাঠ করে ভক্তিভরে গণেশকে প্রণাম করার প্রথা এখানে বলা হয়েছে।
সিংহঃ প্রসেনমবধীৎ সিংহো জাম্ববতা হতঃ।
সুকুমারক মা রোদীস্তব হ্যেষঃ স্যমন্তকঃ॥অর্থ: সিংহ প্রসেনকে হত্যা করেছিল, আর জাম্ববান সেই সিংহকে হত্যা করেছিলেন। ছোট্ট শিশু, কেঁদো না; এই স্যমন্তক মণি তোমারই।
সংশ্লিষ্ট দোষ থেকে মুক্তির জন্য এই পাঠকে প্রচলিত প্রার্থনা হিসেবে মানা হয়। শ্রদ্ধা ও গণেশস্মরণই এর প্রধান ভাব।
বাড়িতে সহজ পুজোর পদ্ধতি
পুজোর জায়গা পরিষ্কার করে উপকরণ আগে থেকে কাছে রাখুন। এটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা। সম্পূর্ণ মন্ত্রের জন্য পরিবারের পুজোর বই বা পুরোহিতের নির্দেশ অনুসরণ করুন।
প্রতিমা ও উপকরণ প্রস্তুত করুন
সম্ভব হলে রং ছাড়া প্রাকৃতিক মাটির প্রতিমা বেছে নিন। ফুল, ফল, পাওয়া গেলে কদবেল, দূর্বা ও নৈবেদ্য প্রস্তুত রাখুন। কিছু তেলুগু উৎসবের রীতিতে এই দিন তুলসী দেওয়া হয়, আবার অন্য রীতিতে গণেশ পুজোয় তুলসী ব্যবহার করা হয় না। নিজের পরিবারের রীতি মানুন।
গণেশকে আবাহন করুন
প্রতিমা সম্মানের সঙ্গে স্থাপন করে দেবতাকে আবাহন করুন। প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল প্রতিমায় দিব্য উপস্থিতি আহ্বান করার আচার। পরিবারের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী এটি করুন।
নৈবেদ্য প্রস্তুত করুন
আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী ২১টি উন্ড্রাল্লু, কুডুমুলু বা মোদক নিবেদন করুন। এগুলি আলাদা আলাদা আঞ্চলিক খাবার। খাবার প্রথমে দেবতাকে নৈবেদ্য হিসেবে নিবেদন করা হয়, পরে প্রসাদ হিসেবে ভাগ করে নেওয়া হয়।
ষোড়শোপচার পুজো করুন
ষোলোটি সেবা বা নিবেদনের মাধ্যমে পুজোকে ষোড়শোপচার বলা হয়। পুজোর বইয়ের ক্রম অনুযায়ী ভক্তিভরে ফুল ও নৈবেদ্য দিন।
দূর্বা নিবেদন করুন
নীচের দশটি নাম পাঠ করে প্রতিটি নামের সঙ্গে দুটি দূর্বার পাতা দিন। বাকি একুশতম পাতাটি সব নাম আবার পাঠ করে নিবেদন করুন এবং পরিবারের রীতি অনুযায়ী পুজো সম্পূর্ণ করুন।
গণেশের দশটি নাম
এই দূর্বা নিবেদনে প্রতিটি নামে দুটি পাতা এবং শেষে একটি পাতা দেওয়া হয়। ‘নমঃ’ মানে প্রণাম।
- ওঁ গণাধিপায় নমঃগণদের অধিপতিকে প্রণাম।
- ওঁ উমাপুত্রায় নমঃউমার পুত্রকে প্রণাম।
- ওঁ অঘনাশকায় নমঃপাপ নাশকারীকে প্রণাম।
- ওঁ বিনায়কায় নমঃবিনায়ককে প্রণাম।
- ওঁ ঈশপুত্রায় নমঃঈশ্বরের পুত্রকে প্রণাম।
- ওঁ সর্বসিদ্ধিপ্রদায়কায় নমঃসমস্ত সিদ্ধি প্রদানকারীকে প্রণাম।
- ওঁ একদন্তায় নমঃএক দন্তবিশিষ্ট প্রভুকে প্রণাম।
- ওঁ ইভবক্ত্রায় নমঃহাতির মুখবিশিষ্ট প্রভুকে প্রণাম।
- ওঁ মূষিক বাহনায় নমঃমূষিক যাঁর বাহন, তাঁকে প্রণাম।
- ওঁ কুমারগুরবে নমঃকুমারের গুরুকে প্রণাম।
বিসর্জন ও তার তাৎপর্য
পুজোর পরে প্রতিমাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানিয়ে জলে নিমজ্জিত করাই গণেশ বিসর্জন। ভক্তদের বিঘ্ন দূর করে গণেশ নিজের দিব্য ধামে ফিরে যান—এটাই এর ভক্তিমূলক ভাব। অনন্ত চতুর্দশীর শেষ সামূহিক বিসর্জন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বাড়ির রীতি অনুযায়ী আগেও বিসর্জন হতে পারে।
রং ছাড়া প্রাকৃতিক মাটির প্রতিমা বাড়িতে জলের পাত্রে বিসর্জন করা যায়। আগে ফুল ও সাজসজ্জা খুলে নিন। মাটি গলে গেলে পরিষ্কার মাটি জমিতে মিশিয়ে দিন। সামূহিক বিসর্জনের জন্য স্থানীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করুন।
এই তথ্যের ভিত্তি
মূল তেলুগু নিবন্ধটি শ্রী গোল্লপল্লী সন্তোষ কুমার শর্মা ধর্মসিন্ধুর মতো প্রথাগত গ্রন্থ এবং দৃক্ সিদ্ধান্ত পঞ্চাঙ্গ গণনা অধ্যয়ন করে লিখেছেন। শহরের সময়সূচি বাড়ির পুজোর জন্য তাঁর দেওয়া নির্দেশনা। আঞ্চলিক রীতি ও সামূহিক আয়োজন আলাদা হতে পারে।
জ্যোতিষ ও হিন্দু সংস্কৃতির সব নিবন্ধ পড়ুন
Vedic Astrology/ Vastu/ Hindu Culture Articles: A Comprehensive Library
Featured Articles
Marriage Matching Complete Details
Lunar Eclipse Article for people living in US & Canada
Lunar Eclipse Article for people living in India
Past event timings, year-specific festival guides and historical one-time articles are kept here for reference.