সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ (৩ মার্চ ২০২৬): জ্যোতিষশাস্ত্রীয় রহস্য, দোলযাত্রার সঠিক সময় এবং আপনার রাশির উপর প্রভাব
সিংহ রাশি এবং পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে কেতু গ্রস্ত চন্দ্রগ্রহণ
নমস্কার! জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী গ্রহণ একটি নৈসর্গিক ঘটনা হলেও, আমাদের সনাতন ধর্ম এবং বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে এর অত্যন্ত গভীর ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬-এ সংঘটিত এই সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি সিংহ রাশি এবং পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে অবস্থান করছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের ভাষায় একে আমরা কেতু গ্রস্ত চন্দ্রগ্রহণ বলে থাকি।
যেহেতু চন্দ্র আমাদের মন, আবেগ এবং ভাবনার কারক, তাই এই সময়ে ছায়াগৃহ কেতুর সাথে চন্দ্রের পীড়িত অবস্থা কেবল আকাশের একটি বিস্ময় নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবন এবং মানসিক অবস্থার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিছু রাশির জন্য এই গ্রহণ অপ্রত্যাশিত সাফল্য এবং ধনলাভ নিয়ে আসবে, আবার কিছু রাশির ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
চন্দ্রগ্রহণ এবং দোলযাত্রা বা হোলি (২০২৬): শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত
এই বছর (২০২৬) ফাল্গুন পূর্ণিমা এবং চন্দ্রগ্রহণ একই দিনে পড়েছে, এটি একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয়। ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহণের সূতক বা গ্রহণ চলাকালীন কোনো শুভ কাজ, পূজা বা উৎসব পালন করা যায় না। এমতাবস্থায় হোলিকা দহন বা ন্যাড়াপোড়া কখন করা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।
শাস্ত্রীয় সমাধান: ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৬:৪৭ মিনিটে গ্রহণের মোক্ষ (সমাপ্তি) হওয়ার পর, স্নান করে শুদ্ধ হয়ে তবেই হোলিকা দহন (ন্যাড়াপোড়া বা কামদহন) করা উচিত। এরপরের দিন অর্থাৎ ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে রঙের উৎসব (দোলযাত্রা বা হোলি) পালন করা সর্বতোভাবে শাস্ত্রসম্মত।
গ্রহণ কোথায় কোথায় দেখা যাবে?
এই অদ্ভুত সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি বিশ্বের অনেক অংশে দৃশ্যমান হবে। এর মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া মহাদেশের বেশিরভাগ দেশ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত মহাসাগর, আর্কটিক এবং অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্পূর্ণ গ্রহণ দৃশ্যমান প্রধান শহরগুলি:
নিউইয়র্ক, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি, সান ফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলেস, ডেট্রয়েট, নিউ অরলিন্স, হনুলুলু (USA), মন্ট্রিল, টরন্টো (কানাডা), লিমা (পেরু), ম্যানিলা (ফিলিপাইন), হ্যানয় (ভিয়েতনাম), মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন (অস্ট্রেলিয়া), তাইপে (তাইওয়ান), জাকার্তা (ইন্দোনেশিয়া), হংকং, গুয়াতেমালা সিটি, হাভানা (কিউবা), ব্যাংকক (থাইল্যান্ড), সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, সাংহাই, বেইজিং (চীন), সান সালভাদোর (এল সালভাদর), টোকিও (জাপান), মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো) এবং ইয়াঙ্গুন (মিয়ানমার)।
আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান শহরগুলি (কলকাতা ও ঢাকা সহ):
কলকাতা, নয়াদিল্লি, মুম্বাই (ভারত), ঢাকা (বাংলাদেশ), রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো (ব্রাজিল), বুয়েনস আইরেস (আর্জেন্টিনা), সেন্ট জনস (কানাডা), সান্তিয়াগো (চিলি), কারাকাস (ভেনেজুয়েলা), সান্টো ডোমিঙ্গো (ডোমিনিকান রিপাবলিক), এবং তাশখন্দ (উজবেकिस्तान)।
ভারতে যখন চন্দ্রোদয় হবে, তখন গ্রহণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে যাবে। এই কারণে একে গ্রস্তোদয় চন্দ্রগ্রহণ বলে মনে করা হয়। আমাদের দেশে প্রধানত গ্রহণের মোক্ষ কাল (শেষ পর্যায়) দৃশ্যমান হবে।
ভারতে মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার সময় এবং শ্রী কালহস্তীর রহস্য
আগাম শাস্ত্র ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, গ্রহণের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। গ্রহণ থেকে নির্গত নেতিবাচক রশ্মির প্রভাব যাতে মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মূর্তির দৈব শক্তির উপর না পড়ে, তার জন্যই এই নিয়মগুলি পালন করা হয়।
- দরজা বন্ধ হওয়ার সময় (সূতক কাল): চন্দ্রগ্রহণের সূতক (যাকে গ্রহণ বেধও বলা হয়) গ্রহণ লাগার ৯ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। ৩ মার্চ সকাল ৯:২৩ মিনিটে সূতক শুরু হওয়ার কারণে, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট সহ দেশের প্রধান মন্দিরগুলির দরজা সকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
- দরজা খোলার সময়: সন্ধ্যা ৬:৪৭ মিনিটে গ্রহণের মোক্ষ (সমাপ্তি) হওয়ার পরে, মন্দিরে সম্প্রোক্ষণ (শুদ্ধিকরণ) এবং পুণ্যাহবাচন করা হবে। এর পরেই ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরগুলি আবার খুলে দেওয়া হবে।
গ্রহণের সময়ও খোলা থাকা একমাত্র শিবমন্দির - শ্রী কালহস্তী:
যখন সারা দেশের মন্দির বন্ধ থাকে, তখন অন্ধ্রপ্রদেশের
শ্রী কালহস্তী (বায়ু লিঙ্গম) শিবমন্দিরের দরজা কিন্তু খোলা থাকে। এর পিছনের রহস্য হল এই মন্দিরটি
রাহু-কেতু পরিহার ক্ষেত্র। এখানে বিরাজমান শ্রী কালহস্তীশ্বর ভগবান নবগ্রহ এবং সমস্ত ২৭টি নক্ষত্রকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ভগবানের কবচে সমস্ত গ্রহ এবং নক্ষত্র খোদিত রয়েছে, তাই এই মন্দিরে কোনো গ্রহণ দোষ লাগে না। বিশ্বাস অনুসারে, গ্রহণ কালে এই মন্দিরে রাহু-কেতু সর্পদোষ নিবারণ পূজা এবং রুদ্রাভিষেক করলে অনন্ত পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের বড় সঙ্কট দূর হয়।
ভারতের জন্য (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচী (মার্চ ২০২৬)
| বিবরণ | সময় (IST) |
|---|---|
| আংশিক গ্রহণের প্রারম্ভ | ৩ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৩:২০:০৫ |
| পরমগ্রাস (সর্বোচ্চ) গ্রহণ | ৩ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৫:০৩:৪১ |
| আংশিক গ্রহণের সমাপ্তি | ৩ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৭:১৭ |
| ভারতে গ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার সময় (প্রারম্ভ) | ৩ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৩:০৯ (চন্দ্রোদয়) |
| ভারতে গ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার সময় (সমাপ্তি) | ৩ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৭:১৭ |
| সূতক কাল (বেধ) প্রারম্ভ | ৩ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৩:০৯ |
| সূতক কাল (বেধ) সমাপ্তি | ৩ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৭:১৭ |
বিঃদ্রঃ: আপনার শহরের ভৌগলিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে গ্রহণের সময়ে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। আপনার শহরের সঠিক সময় জানতে আমাদের Lunar Eclipse Date & Time Finder টুলটি ব্যবহার করুন।
|
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় পরামর্শ (গ্রহণের রাশির উপর ভিত্তি করে): এই গ্রহণ সিংহ রাশি এবং পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে সংঘটিত হচ্ছে: শুভ ফল: মিথুন (৩য় ভাব), তুলা (১১শ), বৃশ্চিক (১০ম), মীন (৬ষ্ঠ) সাধারণ ফল: মেষ (৫ম), কর্কট (২য়), ধনু (৯ম), কুম্ভ (৭ম) অশুভ ফল: বৃষ (৪র্থ), সিংহ (১ম), কন্যা (১২শ), মকর (৮ম) বিস্তারিত রাশিফল পড়তে নিচে স্ক্রোল করুন। |
শাস্ত্রীয় উপায় বা প্রতিকার
যাঁদের ক্ষেত্রে গ্রহণের ফল অশুভ বা সাধারণ, তাঁদের গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ওই দিন বা পরের দিন সকালে কাছাকাছি কোনো নদীতে স্নান করা উচিত (কাছাকাছি নদী না থাকলে বাড়িতেই স্নান করবেন)। এরপর, একটি তামা বা স্টিলের পাত্রে শুদ্ধ ঘি ভর্তি করে তাতে রুপোর তৈরি কেতু এবং চন্দ্রের মূর্তি ডুবিয়ে সংকল্প করে দান করা উচিত। এর পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চাল এবং কুলত্থ কলাই (Horse gram) দান করবেন।
১২ রাশির উপর গ্রহণের প্রভাব এবং নিখুঁত উপায়
সিংহ রাশিতে ঘটতে থাকা এই কেতু গ্রস্ত চন্দ্রগ্রহণ আপনার চন্দ্র রাশি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল দেবে। আপনার জীবনে কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে এবং এই অশুভ প্রভাবগুলি থেকে বাঁচতে কী কী বৈদিক উপায় অবলম্বন করা উচিত তা জেনে নিন:
মেষ রাশি: এই গ্রহণ আপনার ৫ম ঘরে ঘটছে। এর ফলে সন্তানদের শিক্ষা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে মনে কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। শেয়ার বাজারে তাড়াহুড়ো করে কোনো বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবেন না।
উপায়: ভগবান কার্তিকেয় বা হনুমানজীর আরাধনা করলে মানসিক শান্তি পাবেন।
বৃষ রাশি: আপনার ৪র্থ ঘরে গ্রহণের প্রভাব থাকবে। মায়ের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নিন এবং গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন। পরিবারে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্ক হতে পারে, তাই ধৈর্য ধরুন।
উপाय: ললিতা সহস্রনাম বা দেবী খড়্গমালা স্তোত্র পাঠ করা অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হবে।
মিথুন রাশি:
অত্যন্ত শুভ! আপনার ৩য় ঘরে ঘটা এই গ্রহণ আপনার পরাক্রম এবং সাহস বৃদ্ধি করবে। কঠিন কাজগুলিও আপনি সহজেই সম্পন্ন করবেন। কর্মক্ষেত্রে আপনার সিদ্ধান্তগুলি প্রশংসিত হবে।
উপায়: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গরীবদের মিষ্টি বা তাজা ফল দান করুন।
কর্কট রাশি: আপনার ২য় (ধন এবং বাণী) ঘরে গ্রহণ থাকার কারণে, আপনাকে কথা বলার সময় সংযত থাকতে হবে। আপনার ভালো উদ্দেশ্যগুলিও পরিবারের সদস্যরা ভুল বুঝতে পারেন। হঠাৎ কিছু খরচ দেখা দিতে পারে।
উপায়: গ্রহণ কালে চন্দ্রের ধ্যান করুন অথবা ১০৮ বার 'ওঁ নমঃ শিবায়' জপ করুন।
সিংহ রাশি: এই গ্রহণ আপনার নিজের রাশিতেই (লগ্নে) ঘটছে! শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও আপনি মানসিক চাপ বা অকারণে ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। ছোটখাটো বিষয়ে রাগ করা এড়িয়ে চলুন।
উপায়: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শিব মন্দিরে গিয়ে রুদ্রাভিষেক করা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।
কন্যা রাশি: আপনার ১২শ ঘরে গ্রহণ থাকার কারণে কাজে বিলম্ব এবং ঘুম না আসার সমস্যা হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘ যাত্রা কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখা শ্রেয়।
উপায়: বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা আপনার জন্য একটি সুরক্ষাকবচের মতো কাজ করবে।
তুলা রাশি:
ধনলাভের যোগ! আপনার ১১শ (লাভ) ঘরে গ্রহণ হওয়ার কারণে আপনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। আটকে থাকা পুরনো টাকা ফেরত পেতে পারেন। বন্ধু এবং বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন।
উপায়: মা দুর্গার আশীর্বাদ বজায় রাখার জন্য দুর্গা অষ্টকম পাঠ করুন।
বৃশ্চিক রাশি: আপনার ১০ম (কর্ম) ঘরে গ্রহণ আপনার কেরিয়ার এবং ব্যবসায় সম্মান বৃদ্ধি করবে। আপনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছ থেকে প্রশংসা পাবেন এবং কিছু নতুন দায়িত্বও পেতে পারেন।
উপায়: সাফল্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করুন।
ধনু রাশি: ৯ম (ভাগ্য) ঘরে গ্রহণ থাকার কারণে বাবার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তীর্থযাত্রা বা দীর্ঘ যাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। তবে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য এই সময়টি চমৎকার।
উপায়: ভগবান শিবের দক্ষিণামূর্তি রূপের ধ্যান করুন বা গুরু চরিত্র পাঠ করুন।
মকর রাশি: আপনার ৮ম ঘরে গ্রহণ লাগছে। যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করার সময় বা ড্রাইভিং করার সময় একেবারেই অসতর্ক হবেন ওর। স্বাস্থ্যের সামান্য সমস্যাকেও উপেক্ষা করবেন না, অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উপায়: 'ওঁ নমঃ শিবায়' (শিব পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র)-এর বেশি করে জপ করুন।
কুম্ভ রাশি: আপনার ৭ম ঘরে গ্রহণ থাকার কারণে আপনার দাম্পত্য জীবন বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের উপর প্রভাব পড়তে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখুন।
উপায়: নবগ্রহ স্তোত্র পাঠ করুন এবং গরুকে সবুজ ঘাস খেতে দিন।
মীন রাশি:
শত্রুদের উপর বিজয়! ৬ষ্ঠ ঘরে ঘটা এই গ্রহণ আপনাকে আইনি বিষয় বা বিবাদে সাফল্য এনে দেবে। আপনি আপনার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করবেন। পুরনো কোনো রোগ থাকলে তার উন্নতি দেখা যাবে।
উপায়: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কাছের কোনো শিব মন্দিরে গিয়ে দর্শন করে আসুন।
গ্রহণ কালে পালন করার নিয়মাবলী এবং ব্যবহারিক ছাড় (দেশ-কাল-পরিস্থিতি)
আমাদের বৈদিক জীবনধারা প্রকৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তবে আমাদের ঋষিরা এও স্পষ্ট করে গেছেন যে, দেশ, কাল ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মের ব্যবহারিক পরিবর্তন করা সম্ভব:
-
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ এবং নিয়মে ছাড়: ভারতে এই গ্রহণ মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য (শেষ পর্যায়ে) দৃশ্যমান হবে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের উচিত ওই কয়েক মিনিট বাড়ির বাইরে না বেরিয়ে ঘরের ভেতরেই বিশ্রাম নেওয়া। যেসব দেশে গ্রহণ দীর্ঘক্ষণ দৃশ্যমান হবে, সেখানেও ঘরের ভেতরে থাকাই শ্রেয়।
আধুনিক যুগে নিয়মের শিথিলতা: প্রাচীনকালে শৌচাগার বা বাথরুম বাড়ির থেকে দূরে বা খোলা জায়গায় থাকতো। গ্রহণের সময় মহাজাগতিক বিকিরণ (Radiation) ক্ষতিকারক হয়, তাই সেই সময় বাইরে শৌচকর্মের জন্য যাওয়া নিষেধ ছিল এবং এর জন্য কঠোর নিয়ম ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে আমাদের বাড়ির ভেতরেই (বেডরুমের সাথে যুক্ত) অ্যাটাচড বাথরুম থাকে। তাই গ্রহণের সময় প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরের ভেতরের বাথরুম ব্যবহার করাতে কোনো দোষ নেই। দেশ-কাল-পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের জীবনযাত্রার এই ধরনের ব্যবহারিক পরিবর্তন কখনোই শাস্ত্রবিরোধী নয়। গর্ভবতী মহিলাদের অযথা ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু খেয়াল রাখবেন, এই সময়ে ছুরি, কাঁচি, বঁটি বা সুঁচের মতো ধারালো জিনিস ব্যবহার করবেন না। - খাবার এবং কুশ ঘাস: সূতক কাল শুরু হওয়ার পর খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। গ্রহণের সময় পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই রান্না করা খাবার এবং পানীয় জলে কুশ ঘাস দেওয়ার প্রথা রয়েছে। কুশ ঘাসে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা খাবারকে দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- মন্ত্র জপের শক্তি: গ্রহণের সময়টি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সুযোগ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে গ্রহণ কালে করা মন্ত্র জপ, ধ্যান বা ইষ্টদেবতার প্রার্থনা সাধারণ দিনের তুলনায় কোটি গুণ বেশি ফল প্রদান করে।
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ: চন্দ্র ও কেতুর মিলনের মানসিক প্রভাব
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্র আমাদের মন, মা এবং আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে কেতু হলো বৈরাগ্য, একাকিত্ব, লুকানো ভয় এবং মোক্ষের কারক। এই চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন কেতু চন্দ্রকে গ্রাস করে, তখন আমাদের মনের গভীরে একটি মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়:
- আত্মবিশ্বাসের অভাব: আপনি হঠাৎ নিজের ক্ষমতার উপর সন্দেহ করতে পারেন বা হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন।
- অজানা ভয়: ভবিষ্যৎ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি মনে তৈরি হতে পারে।
- একাকিত্বের ইচ্ছা: মানুষের সাথে মেলামেশা বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং একা থাকার ইচ্ছা জাগতে পারে।
- আধ্যাত্মিক জাগরণ: এই মিলনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এই সময়ে আপনার মন স্বাভাবিকভাবেই আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান এবং ঈশ্বরের ভক্তির দিকে আকৃষ্ট হবে।
এই গ্রহণের সূক্ষ্ম প্রভাব প্রায় ৬ মাস ধরে থাকে। এই সময়ে মানসিক দুর্বলতা এড়ানোর জন্য ভগবান শিবের আরাধনা করা সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। মনে রাখবেন, গ্রহণ একটি স্বাভাবিক নৈসর্গিক ঘটনা; এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রকৃত ফলাফল আপনার জন্মকুণ্ডলী এবং বর্তমানে চলমান দশার উপরও নির্ভর করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বাড়িতে সাথে সাথে কী করা উচিত?
উত্তর: গ্রহণের মোক্ষ হওয়ার পর পুরো ঘর পরিষ্কার করুন, সম্ভব হলে জলে একটু সন্ধব লবণ মিশিয়ে মেঝে মুছে নিন। এরপর স্নান করুন, ঠাকুরঘর পরিষ্কার করে ভগবানের দর্শন করুন, প্রদীপ জ্বালান এবং তারপরেই তাজা খাবার রান্না করে খান।
প্রশ্ন: গ্রহণের সূতক বা বেধ কী?
উত্তর: গ্রহণ লাগার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই প্রকৃতিতে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হতে থাকে। এই অশুভ প্রাক-গ্রহণ পর্যায়টিকেই সূতক কাল বা বেধ বলা হয়। চন্দ্রগ্রহণের জন্য এটি ঠিক ৯ ঘণ্টা আগে শুরু হয়।
প্রশ্ন: আমরা কি গ্রহণের সময় ঘুমাতে পারি?
উত্তর: সুস্থ ব্যক্তিদের গ্রহণের সময় ঘুমানো এড়িয়ে চলা উচিত এবং এই সময়টি ভগবানের ধ্যান এবং মন্ত্র জপের জন্য ব্যবহার করা উচিত। তবে অসুস্থ ব্যক্তি, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে তারা বিশ্রাম নিতে পারেন।
উপসংহার: গ্রহণকে ভয় বা উদ্বেগের সময় হিসাবে না দেখে, একে প্রকৃতি দ্বারা আমাদের মানসিক এবং আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণের জন্য দেওয়া একটি দুর্দান্ত সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করুন। ইতিবাচক থাকুন, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখুন এবং আপনার জীবনকে উন্নত করতে এই শক্তিশালী সময়টিকে কাজে লাগান।


The Hindu Jyotish app helps you understand your life using Vedic astrology. It's like having a personal astrologer on your phone!
Are you searching for a detailed Panchang or a daily guide with good and bad timings, do's, and don'ts? Our daily Panchang service is just what you need! Get extensive details such as Rahu Kaal, Gulika Kaal, Yamaganda Kaal, Choghadiya times, day divisions, Hora times, Lagna times, and Shubha, Ashubha, and Pushkaramsha times. You will also find information on Tarabalam, Chandrabalam, Ghata day, daily Puja/Havan details, journey guides, and much more.